উমরাহ কী? পুরো প্রক্রিয়াটি বুঝে নিন
উমরাহর মূল কাজ হলো ইহরাম ও নিয়ত, কাবা শরিফের তাওয়াফ, সাফা-মারওয়ার সাঈ এবং শেষে মাথার চুল মুণ্ডন বা ছোট করা। বিস্তারিত নিয়মে কিছু ফিকহি মতভেদ আছে; নিচে প্রচলিত ব্যবহারিক ধারাটি দেওয়া হয়েছে।
১ · ইহরাম ও তালবিয়া
মীকাতে পৌঁছে/মীকাত অতিক্রমের আগে উমরাহর নিয়ত করে তালবিয়া পড়ুন।
২ · তাওয়াফ
হাজরে আসওয়াদের দিক থেকে শুরু করে কাবাকে বাম পাশে রেখে সাত চক্কর।
৩ · সাঈ
সাফা থেকে মারওয়া, মোট সাত ল্যাপ; সাফা→মারওয়া এক, মারওয়া→সাফা দুই।
৪ · চুল ছাঁটা
পুরুষ মাথা মুণ্ডন বা ছোট করেন; নারী চুলের আগা থেকে সামান্য কাটেন। এরপর ইহরাম শেষ।
বাড়ি থেকে রওনা হওয়ার আগে
নথি ও ভ্রমণ পরিকল্পনা
পাসপোর্ট, ভিসা/প্রবেশ অনুমতি, টিকিট, হোটেল বুকিং, ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স (যদি প্রযোজ্য), জরুরি যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় অ্যাপ যাচাই করুন। নাম ও পাসপোর্ট নম্বর টিকিট/বুকিংয়ের সঙ্গে মিলিয়ে নিন। সৌদি আরবের নিয়ম পরিবর্তিত হতে পারে—রওনার আগে সরকারি নির্দেশনা ও এয়ারলাইনের শর্ত যাচাই করুন।
স্বাস্থ্য ও ওষুধ
প্রয়োজনীয় নিয়মিত ওষুধ মূল প্যাকেটে রাখুন; প্রেসক্রিপশন ও ওষুধের জেনেরিক নাম সঙ্গে রাখুন। টিকা/স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বর্তমান শর্ত সরকারি স্বাস্থ্য নির্দেশিকা থেকে যাচাই করুন। দীর্ঘ হাঁটার প্রস্তুতি নিন, আরামদায়ক স্যান্ডেল ও পানির বোতল রাখুন।
ইহরামের পোশাক ও ব্যক্তিগত জিনিস
পুরুষের জন্য দুই টুকরা ইহরামের কাপড়; নারীর জন্য শালীন স্বাভাবিক পোশাক। সঙ্গে অতিরিক্ত কাপড়, সুগন্ধিবিহীন সাবান/প্রসাধনী, স্যান্ডেল, ছোট ব্যাগ, ফোন চার্জার, পাওয়ার ব্যাংক এবং হোটেলের ঠিকানা রাখুন।
দল/পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ
দলের মিলিত হওয়ার স্থান, হোটেল লোকেশন ও গাইডের নম্বর সেভ করুন। বয়স্ক/শিশুর জন্য পরিচয়পত্রে যোগাযোগ নম্বর রাখুন। ভিড়ে আলাদা হলে কোথায় দেখা করবেন আগে ঠিক করুন।
উমরাহ আদায়ের সম্পূর্ণ ধাপ
মীকাতের আগে ইহরামের প্রস্তুতি ও নিয়ত
মীকাত হলো নির্ধারিত সীমানা, যার বাইরে থেকে মক্কায় উমরাহ করতে আসা ব্যক্তিকে ইহরাম ছাড়া অতিক্রম করা উচিত নয়। বিমানে গেলে আপনার রুট ও ঘোষণার সময় জেনে আগেই প্রস্তুত থাকুন—শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন না।
পুরুষ দুই টুকরা ইহরামের কাপড় পরেন; নারীরা নির্দিষ্ট সাদা পোশাক পরতে বাধ্য নন—শালীন পোশাক পরেন। ইহরামের কাপড় পরা নিজে নিজে নিয়ত নয়; উমরাহর নিয়ত করে ইহরামের অবস্থায় প্রবেশ করা হয়।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমি উমরাহর জন্য হাজির। নিয়তের মূল স্থান অন্তর; উচ্চারণ নিয়ে ফিকহি ব্যাখ্যা থাকতে পারে।
তালবিয়া পড়া এবং ইহরামের বিধান মানা
নিয়তের পর তালবিয়া পড়তে থাকুন। পুরুষ সাধারণভাবে শ্রবণযোগ্য স্বরে, নারীরা নিজেরা শুনতে পান এমন স্বরে পড়েন—অন্যকে বিরক্ত না করে। মক্কায় পৌঁছানো পর্যন্ত তালবিয়া পড়তে থাকুন; তাওয়াফ শুরু করার সময় তালবিয়া বন্ধ করা হয়।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমি হাজির। আপনার কোনো শরিক নেই, আমি হাজির। নিশ্চয় সব প্রশংসা, নিয়ামত ও রাজত্ব আপনারই; আপনার কোনো শরিক নেই।
মসজিদুল হারামে প্রবেশ ও তাওয়াফ
শান্তভাবে প্রবেশ করুন; ভিড় ঠেলে এগোবেন না। তাওয়াফের আগে অজু ও পবিত্রতার বিষয়ে আপনার অনুসৃত ফিকহি বিধান মেনে চলুন। কাবাকে বাম পাশে রেখে হাজরে আসওয়াদের রেখা থেকে শুরু করে সাত চক্কর সম্পন্ন করুন।
প্রতিটি চক্কর হাজরে আসওয়াদের সমান্তরাল স্থান দিয়ে শুরু/শেষ হয়। সম্ভব হলে দূর থেকে হাতের ইশারা করে “আল্লাহু আকবার” বলুন; ভিড় ঠেলে পাথর ছোঁয়া বা চুমু খাওয়ার চেষ্টা করবেন না। হাতিমের ভেতর দিয়ে শর্টকাট নেবেন না, কারণ তাওয়াফ কাবার চারপাশে হতে হবে।
পুরুষদের জন্য এই উমরাহর তাওয়াফে প্রথম তিন চক্করে রমল (সামর্থ্য ও জায়গা থাকলে সামান্য দ্রুত/দৃঢ় পদক্ষেপ) ও ইযতিবা (ডান কাঁধ খোলা রাখা) বিষয়ে সুন্নাহর বর্ণনা আছে; ভিড়, অসুস্থতা বা নিরাপত্তার কারণে কষ্ট হলে করবেন না। নারীরা ইযতিবা/রমল করেন না।
অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দিন, আখিরাতেও কল্যাণ দিন এবং আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। (কুরআন ২:২০১)
সাত চক্কর শেষে নিরাপদ জায়গায় দুই রাকাত সালাত আদায় করুন, যদি সম্ভব হয়; মাকামে ইবরাহিমের ঠিক পেছনে জায়গা না পেলে মসজিদের অন্য জায়গায় পড়ুন। ভিড়ের রাস্তা আটকে দাঁড়াবেন না।
সাফা ও মারওয়ার মাঝে সাঈ
সাফা থেকে শুরু করে মারওয়ায় পৌঁছালে এক ল্যাপ; মারওয়া থেকে সাফায় ফিরলে দুই—এভাবে সাত ল্যাপ শেষে মারওয়ায় শেষ হবে। সবুজ বাতির মাঝের অংশে পুরুষরা সামর্থ্য অনুযায়ী দ্রুত হাঁটেন/হালকা দৌড়ান; নারীরা স্বাভাবিকভাবে হাঁটেন। কাউকে ধাক্কা দেওয়া যাবে না।
সাফা/মারওয়ায় কিবলামুখী হয়ে আল্লাহর প্রশংসা ও দোয়া করা সুন্নাহর বর্ণনায় এসেছে। সাঈ চলাকালেও নিজের ভাষায় দোয়া, যিকির বা কুরআন পড়তে পারেন। অজু থাকা উত্তম; সাঈর জন্য অজু আবশ্যক কি না—এ বিষয়ে তাওয়াফের তুলনায় বিধান আলাদা, অনুসৃত ফিকহি মত জেনে নিন।
অর্থ: নিশ্চয় সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। (কুরআন ২:১৫৮-এর অংশ)
চুল মুণ্ডন বা ছোট করা—উমরাহ সম্পন্ন
সাঈ শেষ হলে পুরুষরা মাথা মুণ্ডন করা বা পুরো মাথার চুল ছোট করার মধ্যে বেছে নেন; মুণ্ডন অধিক ফজিলতপূর্ণ বলে হাদিসে এসেছে। নারীরা চুলের আগা থেকে অল্প পরিমাণ কাটেন; মাথা মুণ্ডন করেন না। সঠিকভাবে চুল কাটার পর তাহাল্লুল হয় এবং ইহরামের নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়।
সাঈ শেষ হওয়ার আগেই চুল কাটবেন না। চুল কাটার পর গোসল/স্বাভাবিক পোশাক পরতে পারেন এবং সুগন্ধি ব্যবহারসহ ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ বিষয়গুলো থেকে মুক্ত হন।
উমরাহর গুরুত্বপূর্ণ দোয়া ও যিকির
দোয়া মুখস্থ না থাকলেও উমরাহ বন্ধ করবেন না। নিচের নির্ভরযোগ্য দোয়া/যিকিরগুলো ব্যবহার করতে পারেন। নিজের ভাষায় আল্লাহর কাছে চাওয়াও করা যায়।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমি হাজির… সকল প্রশংসা, নিয়ামত ও রাজত্ব আপনার।
অর্থ: হে আমাদের রব, দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ দিন এবং আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। (কুরআন ২:২০১)
অর্থ: আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ · সকল প্রশংসা আল্লাহর · আল্লাহ পবিত্র।
ইহরামের সময় কী করা যাবে না?
ইহরাম হলো নির্দিষ্ট ইবাদতের অবস্থায় প্রবেশ করা—শুধু পোশাকের নাম নয়। নিচে সাধারণ নির্দেশনা দেওয়া হলো; কিছু বিস্তারিত বিধানে মাযহাবভেদে ব্যাখ্যা আছে।
| বিষয় | পুরুষ | নারী |
|---|---|---|
| সুগন্ধি | ইহরামে প্রবেশের পর শরীর/কাপড়ে ইচ্ছাকৃত সুগন্ধি ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। | একইভাবে সুগন্ধি এড়িয়ে চলুন। |
| চুল ও নখ | ইহরাম অবস্থায় চুল/নখ কাটা থেকে বিরত থাকুন। | একই বিধান প্রযোজ্য। |
| যৌন সম্পর্ক | যৌন সম্পর্ক ও তার দিকে নিয়ে যায় এমন ঘনিষ্ঠতা থেকে বিরত থাকুন। | একই বিধান প্রযোজ্য। |
| শিকার | স্থলজ বন্য শিকার করা/শিকারে সহায়তার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। | একই বিধান প্রযোজ্য। |
| পোশাক | শরীরের গড়ন অনুযায়ী সেলাই করা স্বাভাবিক পোশাক, মাথা ঢেকে রাখার বিষয়ে পুরুষের নির্দিষ্ট বিধান আছে; বিস্তারিত আলেমের কাছে জানুন। | নারীরা স্বাভাবিক শালীন পোশাক পরেন; পুরুষের মতো দুই টুকরা সাদা কাপড় বাধ্যতামূলক নয়। ইহরামে নিকাব/গ্লাভস বিষয়ে হাদিস ও ফিকহি বিধান জেনে চলুন। |
হায়েজ/মাসিক শুরু হলে কী করবেন?
মাসিক হওয়া স্বাভাবিক; আতঙ্কিত হবেন না এবং নিজে থেকে উমরাহ বাতিল ধরে নেবেন না। আয়েশা (রা.)-কে নবী ﷺ হজের অন্যান্য কাজ করতে এবং পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত কাবার তাওয়াফ না করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন—সহিহ বুখারি ১৬৫০।
- তাওয়াফের আগে মাসিক শুরু হলে তাওয়াফ স্থগিত রাখুন এবং পবিত্র হওয়ার পর গোসল করে তাওয়াফ করুন। আপনার ভ্রমণের সময়সূচি/ফ্লাইটের কারণে জটিলতা হলে দ্রুত দলের দায়িত্বশীল ও যোগ্য আলেমের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
- তাওয়াফের পর সাঈ করার আগে মাসিক শুরু হলে সাঈ ও পবিত্রতার বিধান নিয়ে আপনার অনুসৃত ফিকহি মত অনুযায়ী আলেমের পরামর্শ নিন; নিজে থেকে সব ধাপের একই নিয়ম ধরে নেবেন না।
- নারীদের ইহরামের জন্য সাদা পোশাক বাধ্যতামূলক নয়। শালীন, আরামদায়ক পোশাক পরুন; ভিড়ের মধ্যে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিন।
প্রথমবারের যাত্রীদের সাধারণ ভুল
মীকাত অতিক্রমে দেরি
ফ্লাইটে কখন মীকাত আসতে পারে আগে জেনে ইহরামের প্রস্তুতি নিন।
ভিড়ে ধাক্কাধাক্কি
হাজরে আসওয়াদ ছোঁয়া সুন্নাহ হলেও অন্যকে কষ্ট দেওয়া যাবে না; দূর থেকে ইশারা যথেষ্ট।
চক্কর গুলিয়ে ফেলা
সঙ্গীর সঙ্গে গণনা করুন বা ছোট কাউন্টার ব্যবহার করুন; সন্দেহ হলে নিজের অনুসৃত ফিকহি নির্দেশনা মেনে চলুন।
প্রতিটি ধাপে নির্দিষ্ট দোয়া বাধ্যতামূলক ভাবা
প্রমাণিত দোয়া পড়ুন, তবে নিজের ভাষায় দোয়া করাও সম্ভব; বই দেখে দুশ্চিন্তায় পড়বেন না।
সাঈর গণনা ভুল
সাফা থেকে শুরু, মারওয়ায় শেষ; মোট সাত ল্যাপ।
চুল কাটার আগেই ইহরাম খুলে ফেলা
সাঈ সম্পন্ন করে তারপর চুল মুণ্ডন/ছাঁটুন; তাহাল্লুলের পর ইহরাম শেষ হয়।
ব্যক্তিগত উমরাহ চেকলিস্ট
যা প্রস্তুত হয়েছে টিক দিন। এই চেকলিস্ট শুধু এই ব্রাউজারে সাময়িকভাবে কাজ করে; আলাদা অ্যাকাউন্টে সংরক্ষণ হয় না।
০ / ১২ সম্পন্ন
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
উমরাহর জন্য নির্দিষ্ট কোনো দোয়া মুখস্থ না থাকলে কী হবে?
তালবিয়া ও সহজ কিছু যিকির শিখুন। তাওয়াফ ও সাঈতে নিজের ভাষায় দোয়া করা যায়; প্রতিটি চক্করে নির্দিষ্ট দোয়া বাধ্যতামূলক নয়।
তাওয়াফের চক্কর গুনতে ভুল হলে?
সম্ভব হলে নিশ্চিত গণনা ধরে এগোন। সন্দেহ ও তার সমাধান নিয়ে মাযহাবভেদে বিস্তারিত বিধান আছে; আপনার অনুসৃত ফিকহি নির্দেশনা/যোগ্য আলেমের সাহায্য নিন।
ইহরামের কাপড় নোংরা হলে বদলানো যাবে?
ইহরামের কাপড় বদলানো নিজে নিষিদ্ধ নয়; পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন। ইহরাম পোশাক নয়, ইবাদতের নির্দিষ্ট অবস্থা।
উমরাহ করতে কত সময় লাগে?
সময় ভিড়, চলাচল, স্বাস্থ্য ও বিশ্রামের ওপর নির্ভর করে। নির্দিষ্ট সময়ের নিশ্চয়তা নেই; বয়স্ক/শিশু ও চলাচলে অসুবিধা আছে এমন ব্যক্তির জন্য পর্যাপ্ত সময় রাখুন।
মদিনায় যাওয়া কি উমরাহর অংশ বা শর্ত?
না। মদিনা সফর অনেকের যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও উমরাহর মূল রুকন/ধাপ নয়; মক্কায় উমরাহ সম্পন্ন করা যায়।
উমরাহর পর আবার উমরাহ করতে চাইলে?
পুনরায় উমরাহর জন্য কোথা থেকে ইহরাম করবেন, বিশেষ করে মক্কায় অবস্থান করলে, সে বিষয়ে প্রচলিত ফিকহি মত ও বর্তমান ব্যবস্থাপনা অনুযায়ী যোগ্য গাইড/আলেমের পরামর্শ নিন।
দলিল, রেফারেন্স ও আরও পড়ুন
এই গাইডটি সহজবোধ্য প্রাথমিক সহায়তা। এখানে উল্লেখিত বিধান ও দোয়াগুলোর মূল সূত্র নিচে দেওয়া হলো। প্রয়োগগত কিছু বিষয়ে আলেমদের ব্যাখ্যা ভিন্ন হতে পারে।
- Saudi Ministry of Hajj and Umrah — A Comprehensive Guide to Umrah (PDF)
- কুরআন ২:১৫৮ — সাফা ও মারওয়া
- কুরআন ২:১৯৬ — হজ ও উমরাহ সম্পন্ন করার নির্দেশ
- কুরআন ২:২০১ — দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের দোয়া
- সহিহ বুখারি ১৬৫০ — হায়েজ অবস্থায় তাওয়াফ স্থগিত রাখার বর্ণনা
- সহিহ বুখারি ১৫৪৯ — তালবিয়ার বর্ণনা
